বনগাঁয় বুকস্টল মামলায় সিপিএম বড় ধাক্কা খেয়েছে। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করেছে। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে প্রশ্ন করেন, সিপিএম কি স্টল বসানোর জন্য কোনও অনুমতি নিয়েছে? সিপিএমের আইনজীবী জানান, রাজ্যের অনুমতি নেওয়া হয়নি, তবে SDO-কে জানানো হয়েছিল। প্রতিবছর সেখানে অন্তত একশো স্টল বসে, কখনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। প্রধান বিচারপতি বলেন, চল্লিশ বছর ধরে কোনও আইন কার্যকর না হলেও এবছর আইন প্রয়োগ করা যাবে না, এমনটা হতে পারে না।
হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, যদি এই নিয়ম চালু থাকে, তা সবার জন্য প্রযোজ্য হবে। অনুমতি ছাড়া কোনো স্টল বসানো যাবে না। শুধু সিপিএম নয়, হিন্দু জাগরণ মঞ্চের বুকস্টলের অনুমতি ছিল কি না, সেটাও পুলিশকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, তাদের স্টলও যদি অনুমতি ছাড়া বসানো হয়ে থাকে, তাহলে তা সরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে পুলিশকে। হাইকোর্টের নির্দেশ। মামলার পরবর্তী শুনানি ২১ জানুয়ারি।
সম্প্রতি বনগাঁ ও নৈহাটিতে দুর্গাপুজোয় দুটি বুকস্টল করার জন্য আবেদন করে সিপিএম। অভিযোগ, পুলিশ অনুমতি দেয়নি। এরপর শুরু হয় আইনি সংঘাত। বৃহস্পতিবার বনগাঁয় সিপিএমের বুকস্টল তৈরির অনুমতি দেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি মন্তব্য করেন, কাউকে অনুমতি দিয়ে আর কাউকে না দিলে ভুল বার্তা যাবে, আইন সবার জন্য সমান। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার ফের ডিভিশন বেঞ্চে যায়। শুক্রবার ডিভিশন বেঞ্চে শুনানিতে প্রধান বিচারপতি জানান, অনুমতি না থাকলে স্টল তুলে দিতে হবে।
- আরও পড়ুন — ‘হিন্দুধর্ম নিয়ে কটূক্তিতে বোতল, অন্য ধর্ম হলে বোমা পড়ত’, বিকাশের বাড়িতে হামলায় কটাক্ষ সুকান্তর!
শুক্রবার রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সিপিএমের বুকস্টল ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। কলকাতার এন্টালিতেও সিপিএমের বুকস্টল করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কামারডাঙা সাধারণ দুর্গোৎসব সমিতির দাবি, দোকান ঘিরে স্টল তৈরি করছিল সিপিএম, যা স্থানীয়রা আটকে দেয়। এই সমিতিই ‘বাম বধে’র হুঁশিয়ারি দিয়ে ফ্লেক্স টাঙিয়েছিল। পুজোয় বামেদের স্টল বসতে দেওয়া হবে না বলে ফ্লেক্সে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।



1 Comment
Pingback: তেরঙা যাত্রা ঘিরে উত্তাল দিল্লি: বাড়ি থেকেই দীপকে আটক, যন্তর মন্তর থেকে পুলিশ হেফাজতে নেহা - প্র