সপ্তমীর রাতে চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর তথ্য—ভিড়ের চাপে অন্তত ৬ জনের পাঁজরের হাড় ভেঙে ফুসফুসে ঢুকে যায়। শুধু তাই নয়, দমবন্ধ হয়ে মৃত্যুর পাশাপাশি হাত-পা ভাঙা ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণেরও উল্লেখ রয়েছে ওই রিপোর্টে।
শোনা যাচ্ছে, প্রবল ভিড়ের চাপে অন্তত ছয়জনের পাঁজরের হাড় ভেঙে গেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সেই ভাঙা হাড় ফুসফুসে ঢুকে গেছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের দাগও পাওয়া গেছে—কারও হাত ভেঙেছে, কারও পা। অন্যদের মধ্যে আবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও মাথায় আঘাতের কথাও উঠে এসেছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে।
প্রাথমিক ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা গেছে, মৃতদের মধ্যে অন্তত সাতজনের মৃত্যু দমবন্ধ হয়ে হয়েছে। এই তথ্য চোরবাগানের ঘটনার ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানে দুর্ঘটনা ঘটার পরই হাসপাতালে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মধ্যরাতে তিনি চোরবাগানের মণ্ডপেও যান। বিশেষ টিম গঠন করে মণ্ডপগুলির পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও সম্পন্ন করেছেন। রবিবার সকালে বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মৃতদের পরিবারগুলির সঙ্গে সরাসরি দেখা করবেন তিনি। চোরবাগানের ঘটনায় যে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে, সে বিষয়েও এদিন উত্তর দিয়েছেন শুভেন্দু।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন যে ক্যাব বুক করে তাঁদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিল পুলিশই। তিনি বলেন, “অভিযোগ মূলত অস্থায়ী হোমগার্ডদের বিরুদ্ধে। গত ২ বছর ধরে ডিউটি করে এরা এখন তৃতীয় বছরে ডিউটি করছে। আমি নামের তালিকা চেয়েছি।” শনিবার রাতের ঘটনার প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “রাত দেড়টার সময় একজন হোমগার্ডের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তিনি বাংলায় কথা বলতে অস্বীকার করেন এবং বাংলা বুঝতে পারেন না।”
শুভেন্দু জানান, এই হোমগার্ডদের নিয়োগ আগের সরকারের সময় হয়েছিল। তিনি বলেন, “অনেক আবর্জনা বহন করছি, পরিষ্কার করতে সময় লাগবে। এই লোকদের নামের তালিকা তৈরি করতে হবে।” আরও তিনি জানান, ভিতরে কোনও ঘটনা ঘটেনি, ঘটলে সংখ্যাটা অনেক বেশি হত। তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাটি এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্টের কাছে ঘটেছে। দর্শনার্থীরা কীভাবে পদপিষ্ট হলেন তা বলতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, “বৃষ্টি হয়েছিল, দড়ি ছেড়ে দিয়েছিল যারা দড়ি ধরেছিল।”
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আহত ২৫ জনের অবস্থা স্থিতিশীল। মৃতদের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গেছে। আজ রবিবার সকালে চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মুখ্যসচিব, ডিজি এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সেখান থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু জানান, ২৫ লক্ষ টাকার চেক মৃতদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। বিহারের পরিবার বাদে তিনি নিজে গিয়ে বাকি সব পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন। পাশাপাশি পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে ভিড় হবে, সেখানে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে হবে। পৃথক ভিআইপি লাইন বন্ধ করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।


