চোরবাগানে সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঠাকুর দেখতে ভিড় জমে গিয়েছিল। বাইরে তখন ঝেঁপে বৃষ্টি চলছে, আর সেই সময় মণ্ডপের ভিতরে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। আহতদের মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
কয়েক জন গুরুতর আহত। লালবাজার সূত্রে জানা গেছে, মোট ৩৫ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একটি সূত্র বলছে, কাঠামো ভেঙে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পুজোর আলো ও বাহিরপথ।
হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্লাবের সকলকে থানায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মেডিক্যাল কলেজে ৪০-৫০ জনকে আনা হয়েছে। হাসপাতালে পৌঁছেছেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ সূত্র জানাচ্ছে, আহতদের ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা চলছে। ১১ জনকে এসএসকেএমে স্থানান্তর করা হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজের একটি সূত্র বলছে, মৃত ১৭ জনের মধ্যে তিন জন পুরুষ, একজন শিশু এবং ১৩ জন মহিলা। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি টোল ফ্রি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে, নম্বর ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮।
সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর ও মধ্য কলকাতায় হঠাৎ ঝেঁপে বৃষ্টি শুরু হয়, ফলে রাস্তায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। সে সময় চোরবাগানে মণ্ডপের ভিতরে হুড়োহুড়ি শুরু হয় বলে জানা যায়। এক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, বৃষ্টি থেকে বাঁচতে লাইনে দাঁড়ানো বহু মানুষ মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন এবং পরস্পরকে ঠেলাঠেলি করতে থাকেন। এতে কয়েক জন মণ্ডপের ভিতরে বৃত্তাকার পথে পড়ে যান, যা পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, চোরবাগানের মণ্ডপে ঢুকলে একটি বৃত্তাকার ‘এলিভেটেড করিডোর’ থাকে। সেখানে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে মণ্ডপ থেকে বের হতে হয়। জানা যাচ্ছে, সেই করিডোরেই বিপত্তি ঘটেছে। উদ্ধার করে যাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন অচেতন। উদ্ধারকারীদের দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন যে সময়মতো পুলিশ বা রক্ষীরা আসেননি এবং সাহায্য চেয়েও পাওয়া যায়নি।
উদ্যোক্তা বিকাশ দাস জানিয়েছেন, কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে তা এখনও পরিষ্কার নয়। আপাতত উদ্ধারকাজে জোর দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের প্রথম কাজ। পুলিশ ও দমকল ঘটনাস্থলে পৌঁছাচ্ছে। ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।


