বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাকে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার উপর এক গভীর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী বলেছেন, “বাবরি মসজিদ ভাঙতে দেখে আমি কেঁদেছি।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোনিয়া গান্ধী বলেন, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা দেশের বহুত্ববাদী ঐতিহ্য ও সাংবিধানিক মূল্যবোধকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। তাঁর মতে, সেই দিনটি ভারতের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
কংগ্রেসের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক ঐক্য এবং সাংবিধানিক আদর্শ রক্ষার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, ভারতের শক্তি তার বৈচিত্র্যের মধ্যে নিহিত এবং বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থানই দেশের প্রকৃত পরিচয়।
- আরো পড়ুন — ভারতকে বিব্রত করার ফল পেলো ট্রাম্প! ভারতীয় বংশোদ্ভূতরাই আমেরিকায় ঘুরিয়ে দিলেন ভোটের খেলা?
সোনিয়া গান্ধী বলেন, বাবরি মসজিদ ভেঙে পড়ার মুহূর্তেই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী চরিত্র অক্ষুণ্ন রাখতে দীর্ঘমেয়াদি এক লড়াই শুরু হয়েছে। তাঁর মতে, মহাত্মা গান্ধী ও জওহরলাল নেহরুর আদর্শে গড়ে ওঠা ভারতের সামনে তখন গুরুতর চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি অকপটে স্বীকার করেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থান ঠেকাতে কংগ্রেসের অতীতের কিছু নীতিগত ও সাংগঠনিক ব্যর্থতারও ভূমিকা ছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সোনিয়া গান্ধীর এই মন্তব্য কেবল একটি ব্যক্তিগত আবেগের প্রকাশ নয়, বরং ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির প্রতি কংগ্রেসের ঐতিহ্যগত অবস্থানকেও তুলে ধরে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের একাংশ এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনা দেশব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল। সেই ঘটনার প্রভাব ভারতীয় রাজনীতি, সমাজ এবং সাম্প্রদায়িক সম্পর্কের উপর দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলেছে। তিন দশকেরও বেশি সময় পরে সেই ঘটনাকে ঘিরে আবেগ, বিতর্ক এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এখনও অব্যাহত রয়েছে।
সোনিয়া গান্ধীর সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই পুরনো বিতর্ককেই আবার নতুন করে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।


