রাজধানীতে অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভের ডাক এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রধান অভিজিৎ দীপককে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছে আদালত। শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তার অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেন। তবে জামিনের পাশাপাশি আদালত দীপকের ওপর একগুচ্ছ কঠোর আইনি বিধিনিষেধ ও শর্ত আরোপ করেছে।গত শুক্রবার সেন্ট্রাল পার্ক ও যন্তর মন্তরের দিকে ‘তেরঙা যাত্রা’য় অংশ নিতে যাওয়ার পথে পুলিশ তাকে প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনে নেয়। পরে আদালতে তোলার পর বিচারপ্রক্রিয়া শেষে তাকে জামিনে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়।
+------------------------------------------------------------------------------+
| আদালতের দেওয়া মূল জামিনের শর্তসমূহ
+------------------------------------------------------------------------------+
| • এক বছরের শান্তির অঙ্গীকার: আগামী এক বছর জনশান্তি বজায় রাখতে মুচলেকা স্বাক্ষর।
| •জামিন বা বন্ডের পরিমাণ: ৫০,০০০ টাকার নিজস্ব বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ।
| • বিধিনিষেধ মেনে চলা: প্রশাসনিক নির্দেশ ও পুলিশের আগাম নোটিশের অবাধ্য না হওয়া।
| • আদালতের হাজিরা: প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী শুনানিতে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা।
+------------------------------------------------------------------------------+
১ বছরের জন্য শান্তির বন্ড ও ৫০ হাজার টাকার মুচলেকা
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দীপককে মুক্তির আগে ৫০,০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড জমা দিতে হয়েছে। পাশাপাশি আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আগামী এক বছর তিনি কোনোভাবেই শান্তি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না এবং সম্পূর্ণ শান্তি বজায় রাখতে হবে। যদি এই সময়ের মধ্যে তিনি শর্ত ভঙ্গ করেন, তবে তার জামিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং পুলিশ তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে পারবে।
- আরও পড়ুন — বাংলাদেশে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের মডেলে ভারতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চক্রান্ত! রাহুল ও তরুণ নেতাদের বিঁধলেন রাজনাথ!
পুলিশি যুক্তি ও বিচারপতির বেঞ্চ
শুনানির সময় পুলিশ দাবি করে, ১৬৩ ধারা (পুরনো ১৪৪ ধারা) কার্যকর থাকা সত্ত্বেও নিষিদ্ধ এলাকায় জমায়েতের চেষ্টা হয়েছিল। এতে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ট্রাফিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা ছিল বলে তারা আদালতে যুক্তি তুলে ধরে।
উভয় পক্ষের আইনজীবীদের সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক বলেন, নাগরিক অধিকারের পাশাপাশি রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই কয়েকটি কঠোর শর্তে দীপককে সাধারণ জীবনে ফেরার অনুমতি দেওয়া হলো। আদালত থেকে বের হয়ে দীপকের আইনজীবী জানান, তারা বিচারব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আদালতের সব নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলবেন।


