কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দেওয়া এক চাঞ্চল্যকর অভিযানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপর বড়সড় হামলার ছক বানচাল করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের একটি অভিজাত আবাসন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে আন্তর্জাতিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর এক সক্রিয় সদস্যকে, যার কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি ও অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য উদ্ধার হয়েছে।
রেনেসাঁ কমপ্লেক্সে মাঝরাতে হানা
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বর্ধমান শহরের দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন একটি অভিজাত আবাসন ‘রেনেসাঁ কমপ্লেক্স’-এ হানা দেয় বেঙ্গল এসটিএফ-এর একটি বিশেষ দল। সেখান থেকেই পাকড়াও করা হয় সন্দেহভাজন ওই জঙ্গিকে, যার নাম হামিদ মণ্ডল। সে কাশ্মীরের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এই রাজ্যে পরিচয় গোপন করে গা-ঢাকা দিয়েছিল।
উদ্ধার বিস্ফোরক নথিপত্র
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃত হামিদ মণ্ডলের মোবাইল ফোন এবং তার ঘর থেকে একাধিক ডিজিটাল ও কাগজের নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই সমস্ত নথির মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর:
অত্যন্ত গোপনীয় সফরসূচি এবং ভিআইপি মুভমেন্টের রুট ম্যাপ,তাঁর নিরাপত্তার খুঁটিনাটি বিবরণ ও সিকিউরিটি শিডিউল,
মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের গাড়ির বিবরণ, পার্কিংয়ের জায়গা এবং চালকদের লাইভ ডিটেইলস পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক তদন্তের পর গোয়েন্দাদের অনুমান, মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে কোনও বড়সড় নাশকতার বা আত্মঘাতী হামলার চূড়ান্ত ছক কষছিল এই জইশ মডিউল।
পুলওয়ামা যোগ ও দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের জাল
ধৃত হামিদের প্রোফাইল খতিয়ে দেখে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। জানা গেছে, সে কাশ্মীরের ভয়ঙ্কর পুলওয়ামা হামলার মূল চক্রী সাজ্জাদ ভাটের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। পশ্চিমবঙ্গে নাশকতা ছড়াতে সে বেশ কিছুদিন ধরে অত্যন্ত সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল। এমনকি বর্ধমানে আসার আগে কলকাতার নিউটাউন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন সে মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল।
নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ
রাজ্যের খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে কীভাবে এই সমস্ত অতি-গোপন তথ্য একজন আন্তর্জাতিক জঙ্গির হাতে পৌঁছাল, তা নিয়ে নবান্ন তথা স্বরাষ্ট্র দপ্তরে চরম শোরগোল পড়ে গেছে। এই চক্রের সঙ্গে প্রশাসন বা ভেতরের কারও বড়সড় যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হামিদ মণ্ডলকে জেরা শুরু হয়েছে। আজই তাকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করবে এসটিএফ। ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে সাজানোর পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে জারি করা হয়েছে হাই-অ্যালার্ট।


