অবৈধ কারখানা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিল্ডিং প্ল্যান না থাকলেই সেই কারখানা ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে ইতিমধ্যেই বুলডোজার পৌঁছে গিয়েছে এবং KMC-এর পক্ষ থেকে ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোনও কারখানা অবৈধ প্রমাণিত হলে জল ও বিদ্যুৎ সংযোগও কেটে দেওয়া হবে। তিলজলায় দুই জনের মৃত্যুর ঘটনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোন কোন কারখানা অবৈধ, তা তদন্ত করে দেখা হবে এবং কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর সরকার কড়া পদক্ষেপ নেবে। কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর, ইকবালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাদের বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমতি নেই, তাদের খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অডিট করে একদিনের মধ্যে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিলজলা কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ নিল সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে ৪-৫টি বুলডোজার ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী KMDA-এর যৌথ উদ্যোগে ভাঙার কাজ চলছে। পুরো বাড়ি খালি করে দেওয়া হয়েছে, বাড়ির লোকেরা জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। ২টি বাড়ি ভাঙার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। পুলিশের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক, পুলিশ বাহিনী, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পৌরসভার কর্তারা উপস্থিত আছেন। বর্তমানে এলাকায় ১৬৩ BNSS ধারা জারি রয়েছে।
- আরও পড়ুন – Annapurna Bhandar:অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার কারা পাবেন,কারা পাবেন না? কি জানালেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুপুরেই এই ঘটনা নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি জানান, ওই অবৈধ কারখানা বা ভবনের কোনও বিল্ডিং প্ল্যান ছিল না। অগ্নি ও বিদ্যুতের সঠিক ব্যবস্থা ছিল না, আর যা ছিল সবই অবৈধ। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার কারণে আমরা বেশ কিছু কড়া ব্যবস্থা নিয়েছি।
তিলজলা থানার কেস নম্বর ২২৬ অনুযায়ী কারখানার মালিকসহ দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংস্থাকে স্থায়ীভাবে সংযোগ কেটে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। CESC-কে বলা হয়েছে, কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর, ইকবালপুরসহ সব এলাকায় এই ধরণের অবৈধ কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করতে। পৌর নগর-উন্নয়ন সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এক দিনের মধ্যে অবৈধ বিল্ডিং ভেঙে ফেলতে, KMC ও কলকাতা পুলিশের সহযোগিতায়। এছাড়া KMC-কে বলা হয়েছে এই বিপজ্জনক কারখানাগুলোর জল সংযোগও কেটে দিতে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, আমরা এখন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। যারা বেআইনি কাজ করছেন, তাঁদেরও সংশোধিত হয়ে এই ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে কড়া নির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


