নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই উপনির্বাচন ঘিরে যখন বঙ্গ রাজনীতিতে পারদ চড়ছে, তখন তৃণমূলের অন্দরেই নতুন বিস্ফোরণ! একদিকে বিজেপি ও বিরোধীদের নির্বাচনী লড়াই, অন্যদিকে ঘাসফুল প্রতীক নিয়ে কালীঘাট শিবির বনাম ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের আইনি টানাপোড়েন। তার মধ্যেই নন্দীগ্রাম নিয়ে এমন এক ঘোষণা সামনে এল, যা উপনির্বাচনের অঙ্কই ওলটপালট করে দিতে পারে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে প্রার্থী হলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রার্থী দেবে না ঋতব্রত শিবির! বুধবার বিধানসভার বাইরে এমনটাই দাবি করলেন ওই শিবিরের সর্বভারতীয় মুখপাত্র ঋজু দত্ত।
মমতার বিরুদ্ধে ‘লড়াই নয়’, বার্তা ঋতব্রত শিবিরের
নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হওয়া নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সেই আবহেই ঋজু দত্তের মন্তব্যে নতুন মাত্রা পেল বঙ্গ রাজনীতি।
ঋতব্রত শিবিরের বক্তব্য, মমতা নিজে যদি নন্দীগ্রামের ময়দানে নামেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়ে লড়াই করবে না তারা। বরং মমতা নিজে নির্বাচনে জিতে বিধানসভায় ফিরে আসুন—এমনই বার্তা দেওয়া হয়েছে ওই শিবিরের তরফে।
শুধু তাই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোন প্রতীকে লড়বেন, তা নিয়েও আপত্তি নেই বলে দাবি ঋতব্রত শিবিরের। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, মমতা চাইলে তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীকেও লড়তে পারেন, আবার অন্য প্রতীক নিয়েও ময়দানে নামতে পারেন।
অর্থাৎ, নন্দীগ্রামে মমতার বিরুদ্ধে ‘লড়াই না করার’ ঘোষণা—রাজনৈতিক সৌজন্য, নাকি আরও বড় কোনও কৌশল? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে বঙ্গ রাজনীতিতে।
আসল তৃণমূল কার? প্রতীক নিয়ে টানাটানি চরমে
নন্দীগ্রামের পাশাপাশি রেজিনগর উপনির্বাচন নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ঋতব্রত শিবির।
তাদের দাবি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন তাঁদের পক্ষেই রয়েছে। সেই ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে শিবিরটি।
তাঁদের প্রত্যাশা, আইনি নথি ও সাংগঠনিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে জোড়াফুল প্রতীক এবং তৃণমূলের অফিসিয়াল লোগো তাঁদের পক্ষেই বরাদ্দ করবে নির্বাচন কমিশন।
তবে কমিশনের সিদ্ধান্তই এখন সবচেয়ে বড় অপেক্ষা।
প্রতীক না পেলে? নির্দল হয়েই ময়দানে নামার ছক!
সবচেয়ে বড় চমক রয়েছে বিকল্প পরিকল্পনায়।
ঋতব্রত শিবিরের তরফে দাবি করা হয়েছে, উপনির্বাচনের আগে যদি কমিশন প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত না নেয়, কিংবা ঘাসফুল প্রতীক কালীঘাট শিবিরের কাছেই বহাল থাকে, অথবা প্রতীক ‘ফ্রিজ’ হয়ে যায়—তাহলে পিছিয়ে যাবে না তারা।
স্থানীয় প্রার্থীদের নির্দল হিসেবে দাঁড় করিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতিও রয়েছে।
অর্থাৎ প্রতীক থাকুক বা না থাকুক, ময়দান ছাড়ার প্রশ্ন নেই—এমনই বার্তা ঋতব্রত শিবিরের।
নন্দীগ্রামেই কেন এত গুরুত্ব?
নন্দীগ্রাম শুধু আর পাঁচটা বিধানসভা আসন নয়। বাংলার রাজনীতিতে এই কেন্দ্রের আলাদা রাজনৈতিক ও আবেগের গুরুত্ব রয়েছে। ফলে এই আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে জল্পনা তৈরি হতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ।
তার মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী না দেওয়ার ঘোষণা কার্যত আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে ঋতব্রত শিবিরকে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এর মধ্যে একই সঙ্গে রাজনৈতিক বার্তা এবং মনস্তাত্ত্বিক কৌশল রয়েছে। মমতাকে সরাসরি আক্রমণ না করে তাঁকে নির্বাচনী ময়দানে নামার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া—এমন ব্যাখ্যাও উঠে আসছে।
অন্যদিকে, নিজেদের ‘আসল’ ও ‘নিয়মতান্ত্রিক’ তৃণমূল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টাও এই বক্তব্যের মধ্যে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ের মাঝেই ঘাসফুলের ঘরেই যুদ্ধ!
একদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটের লড়াই, অন্যদিকে তৃণমূলের নাম, প্রতীক এবং সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই শিবিরের সংঘাত—নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন তাই শুধু আর সাধারণ উপনির্বাচন থাকছে না।
একটি আসনে মমতা নামবেন কি না, অন্যদিকে ঘাসফুল কার হাতে থাকবে—দুই প্রশ্নের উত্তরই এখন ভোটের অঙ্কে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে প্রার্থী হন কি না, ঋতব্রত শিবির সত্যিই প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে কি না এবং সবচেয়ে বড় কথা, ঘাসফুল প্রতীকের দখল শেষ পর্যন্ত কার হাতে যায়—সেদিকেই এখন নজর গোটা বঙ্গ রাজনীতির।
নন্দীগ্রামের মাটিতে ভোটের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ঘাসফুলের ঘরে যে আগুন জ্বলেছে, উপনির্বাচনের ফলাফল পর্যন্ত তার আঁচ কতটা ছড়ায়—এখন সেটাই দেখার।



1 Comment
Pingback: বাজারে এল iPhone Duo! ক্যামেরায় বড় চমক, A20 Pro চিপে ঝড়—কবে থেকে হাতে পাবেন? - প্রথম খবর