কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে। নির্বাচনের আগে তাঁর বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক মন্তব্য এবং ইভিএম নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে। নির্বাচন কমিশন কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার হন গর্গ চট্টোপাধ্যায়। আগামীকাল তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন গর্গ। রাতে দেখে শুনে সিল করার পরও ভোটগণনার সময় ইভিএম খারাপ হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। “বেলার দিকে নির্বাচন কমিশনের কিছু পরিকল্পনা রয়েছে” বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। ভোট দিয়ে বেরোনোর আগে ভালো করে ভিভিপ্যাট দেখে নিতে পরামর্শও দিয়েছিলেন গর্গ।
নির্বাচনের আগে কমিশনের বিরুদ্ধে শোভাযাত্রায় অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে ‘বাংলা পক্ষ’। তাদের দাবি, পয়লা বৈশাখে শোভাযাত্রা বের করতে চেয়েছিল তারা, কিন্তু কমিশন অনুমতি দেয়নি। এভাবে অনুমতি না দিয়ে কমিশন ‘বাঙালির গৌরব ও সংস্কৃতির’ উপর আঘাত করেছে বলেও অভিযোগ তাদের। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর থাকায় অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
বাঙালি অস্মিতাকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা ‘বাংলা পক্ষ’-এর প্রধান গর্গ। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের অধিকার রক্ষা ও বাঙালি সংস্কৃতির প্রসারই মূল লক্ষ্য এই সংস্থার। ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর শুরু হয় তাদের যাত্রা। হিন্দি ভাষা ও হিন্দি বলয়ের সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরোধিতাই তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সরকারি কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার এবং চাকরিতে বাঙালি যুবক-যুবতীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল তারা।
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলা ভাষার গুরুত্ব বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ‘বাংলা পক্ষ’। রাজ্যের যেকোনো বোর্ডের অধীনে থাকা সব স্কুলে বাংলা ভাষাকে আবশ্যিক করার প্রস্তাব তোলা হয়। সেই অনুযায়ী শিক্ষা দফতরে ডেপুটেশনও দেওয়া হয়। ‘হিন্দি আগ্রাসন’-এর বিরোধী হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করেছেন গর্ব, যদিও তাঁর এই অবস্থান নিয়ে অনেকেই আপত্তি তুলেছেন। তাঁর তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ হওয়ার অভিযোগও ওঠে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে আলোচনা ছিল চরমে।


