বাংলাদেশে আবারও এক হিন্দুর প্রাণহানি ঘটল। গত তিন সপ্তাহে এটি পঞ্চম হত্যাকাণ্ড। ভরা বাজারে গুলিতে নিহত হন রানা প্রতাপ। যশোরের কপালিয়া বাজারের অরুয়া গ্রামে আততায়ীদের গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। তাঁর শরীরে একাধিক গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
পঁয়তাল্লিশ বছরের রানা এলাকার বাসিন্দা তুষারকান্তি বৈরাগীর ছেলে। তাঁর মৃত্যু ঘটতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মণিরামপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। পুলিশ আধিকারিক রাজিউল্লা খান জানান, “আমরা খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে গিয়েছিলাম। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।”
- আরও পড়ুন – ‘কবে থেকে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন চালু হতে চলেছে ‘ ! শর্ত ও সময় বেঁধে হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর!
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কালিমোহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় ২৯ বছরের যুবক অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ২৫ বছরের দীপুচন্দ্র দাসকে পিটিয়ে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং পরে তাঁর শরীরে আগুন ধরানো হয়। শেষ দিনে খোকন দাস নামে এক হিন্দু ব্যক্তিকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা চালায় উন্মত্ত জনতা, দিন দুই পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এরও আগে ময়মনসিংহের ভালুকায় বজেন্দ্র বিশ্বাস নামে এক নিরাপত্তাকর্মী খুন হন। তিনি একটি পোশাক কারখানায় দায়িত্ব পালন করছিলেন, যেখানে অভিযোগ অনুযায়ী তাঁর এক সহকর্মী ৪২ বছরের ওই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেন।
সম্প্রতি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক বিধবা হিন্দু মহিলাকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শুধু যৌন নির্যাতনেই থামেনি, ঘটেছে নৃশংস অত্যাচারও। অভিযোগ, এরপর গাছের সঙ্গে বেঁধে ৪০ বছরের ওই মহিলার চুল কেটে দেওয়া হয়। এমনকি সেই ভয়াবহ ঘটনার ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় দুই অভিযুক্ত। সামগ্রিকভাবে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের চিত্র ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।


