বাংলাদেশে আবারও সংখ্যালঘু হিন্দু খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ বার মুদিখানার দোকানের মালিক শরৎ মণি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়েছে। গত ১৮ দিনে দেশে মোট ছ’জন সংখ্যালঘু হিন্দু খুন হয়েছেন। এতে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য আসেনি।
নরসিংদী জেলার চরসিন্দুর বাজারে ঘটেছে এই ঘটনা। সেখানে মুদিখানার দোকান চালাতেন শরৎ। সোমবার রাতে সেই বাজারেই তাঁর উপর হামলা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পলাশ উপজেলার ওই ব্যস্ত বাজারে নিজের দোকানে কাজে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। তখনই অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। হত্যার সময় তারা বলতে থাকে, এবার তোর বাবা মোদী তোকে বাঁচাতে পারবে না।
সোমবার রাত ১০টার দিকে শরতের উপর হামলার খবর পাওয়া যায়। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকজন ধারাল অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে। এতে গুরুতর আহত হন শরৎ। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি। ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর। শরতের বাবা মদন চক্রবর্তী। পরিবারের বড় ছেলে ছিলেন তিনি এবং এলাকায় একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
শরতের স্ত্রী অন্তরা মুখোপাধ্যায় একজন গৃহবধূ, তাঁদের ছেলে অভীক চক্রবর্তীর বয়স ১২ বছর। আগে শরৎ দক্ষিণ কোরিয়ায় কাজ করতেন, কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে ফিরে নরসিংদীর ব্রাক্ষন্দীতে বাড়ি করে পরিবারসহ সেখানে থাকতে শুরু করেন। এক আত্মীয়ের মতে, শরৎ ও তাঁর পরিবার খুবই সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। দেশের পরিস্থিতি নিয়ে শরৎ বেশ উদ্বিগ্নও ছিলেন। গত ১৯ ডিসেম্বর তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘চারিদিকে এত আগুন, এত হিংসা। আমার জন্মভূমি মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে’।
পাড়া-প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, শরৎ ছিলেন অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের, মানবিক এবং সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ একজন মানুষ। তাঁর কোনও শত্রু ছিল না। প্রতিবেশীরা প্রশ্ন তুলছেন, হিন্দু বলেই কি তাঁকে খুন করা হয়েছে? বাংলাদেশে এক হিন্দুর রক্ত শুকানোর আগেই আরেক হিন্দুকে হত্যা করা হচ্ছে। প্রতাপ রাণার মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শরৎকে খুন করা হলো। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে হিন্দুদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।


