আইপ্যাক-কাণ্ডে সোমবার রাজ্যের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা অভিযোগ করেছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার জোর করে ভিতরে ঢুকে তদন্তে বাধা দিয়েছেন। পাল্টা ইডির বিরুদ্ধে আবারও রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ এনেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল।
শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া লিখিত বক্তব্যে ইডি জানিয়েছে, আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) মনোজ বর্মা এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী জোর করে ভিতরে প্রবেশ করেন। ইডির অভিযোগ, তদন্তকারীদের ভয় দেখানো, আটকে রাখা, গুরুত্বপূর্ণ নথি, মোবাইল, হার্ড ডিস্ক ও ল্যাপটপ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সংস্থার দাবি, সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দেওয়া, চুরি, ডাকাতি, বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে।
ইডির দাবির প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “ছয় বছর ধরে নিস্ক্রিয় থাকা মামলা ভোটের আগে হঠাৎ সক্রিয় করেছে ইডি। তৃণমূলের তথ্যভাণ্ডার দখলের চেষ্টা হয়েছিল। দলের নেত্রী হিসেবে তা রক্ষা করতে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই এখন এসব বলা হচ্ছে।” উল্লেখ্য, শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন, ‘তৃণমূলের চেয়ারপার্সন’ হিসেবেই তিনি প্রতীকের বাড়িতে গিয়েছিলেন।
- আরও পড়ুন– আইপ্যাক দফতরে ED র অভিযানে মমতার নেতৃত্বে নথি ছিনতাই নিয়ে হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ ইডির!
আইপ্যাক-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানায় ইডি হাই কোর্টে। কিন্তু শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে শুনানি শুরুই সম্ভব হয়নি। বিচারপতি এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া নথিতে ইডির অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মীরা ইচ্ছে করে আদালতের ভিতরে বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোল তৈরি করেছিলেন। ফলে বিচারপতি শুনানি চালাতে পারেননি। আদালত লিখিতভাবে জানায়, পরিবেশ শুনানির উপযোগী নয়। এতে হাই কোর্ট থেকে ন্যায়বিচারের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ইডির দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর সমর্থকেরা এই বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত এবং এর প্রমাণ দলের হোয়াট্সগ্রুপে রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে ইডির আবেদন, ঘটনাটি সিবিআই-কে দিয়ে তদন্ত করানোর নির্দেশ দেওয়া হোক। মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের এবং তাঁদের ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হোক। ‘ছিনিয়ে নেওয়া’ নথি তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করে সুরক্ষিত রাখারও আর্জি জানিয়েছে ইডি। একই সঙ্গে ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর স্থগিত বা খারিজ করার অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে রাজ্য পুলিশ যাতে ইডি তদন্তে বাধা না দেয়, তা নিশ্চিত করার আবেদনও জানানো হয়েছে।


